পিএম কেয়ার্স সরকারি তহবিল নয়, দাবি প্রধানমন্ত্রী দফতরের । এম ভারত নিউজ

user
0 0
Read Time:5 Minute, 25 Second

ফের শিরোনামে বহু বিতর্কিত পিএম কেয়ার্স ফাণ্ড। প্রধানমন্ত্রীর নামেই তহবিল, চেয়ারম্যানও তিনিই। এই তহবিলের ঠিকানাও দিল্লির সাউথ ব্লকে প্রধানমন্ত্রীর দফতর। কিন্তু শুক্রবার একটি হলফনামা প্রকাশের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর দফতরের দাবি, পিএম-কেয়ার্স তহবিলের সঙ্গে কোনও সম্পর্কই নেই কেন্দ্রীয় সরকারের! এই তহবিল বা এর কাজকর্ম কোনটিই কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে নয়। গত বছর করোনা পরিস্থিতি চলাকালীন মার্চে কোভিডের মোকাবিলায় পিএম-কেয়ার্স তহবিল তৈরি করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। এই তহবিলের চেয়ারম্যানশুধু যে প্রধানমন্ত্রী তা নয় দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী, অর্থমন্ত্রীও তহবিলের অছি পরিষদের সদস্য। ফান্ডের ওয়েবসাইটে রয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ছবি সঙ্গে জাতীয় প্রতীক অশোক স্তম্ভও। তাতে চাঁদা চেয়ে বিজ্ঞাপনও দেওয়া হয়েছে সম্পূর্ন সরকারি খরচে। কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মচারী, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা, ব্যাঙ্কের কর্মীদের বেতন কেটে তহবিলে টাকাও জমা করা হয়েছে। রেল থেকে বিদেশ মন্ত্রক, শিক্ষা থেকে স্বাস্থ্য প্রতিটি সরকারি মন্ত্রকই কোটি কোটি টাকা অনুদান হিসেবে জমা করেছে এই তহবিলে।

এমন একটি ফান্ডের কোনরকম হিসেব পরীক্ষা করা হয়নি। তথ্যের অধিকার আইনে এই তহবিলের জমা-খরচ নিয়েও কোন তথ্যই দিতে চায়নি প্রধানমন্ত্রীর দফতর। এমনকি সরকারি হিসেব পরীক্ষক সংস্থা সিএজি-কেও এর হিসেবনিকেশ পরীক্ষা করতে দেওয়া হয়নি। এই ফান্ডের স্বচ্ছতা নিয়ে বারবার সরব হয়েছে বিরোধীরা। কংগ্রেস সহ অন্যান্য বিরোধীরা বারবার প্রশ্ন তুলেছে, প্রধানমন্ত্রী জাতীয় ত্রাণ তহবিল থাকতে আলাদা করে তহবিল তৈরির প্রয়োজন পড়ল কেন। কেন সরকারি কর্মচারী, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার কর্মীদের বাধ্য করা হয়েছিল এই তহবিলে টাকা জমা করতে? খোদ অর্থ মন্ত্রকের রাজস্ব দফতরের তরফ থেকে গত বছরের এপ্রিলে সার্কুলার জারি করে জানিয়েছিল, কারও আপত্তি না থাকলে এক বছর পর্যন্ত ইচ্ছুক কর্মীদের প্রতি মাসে একদিনের বেতন কেটে পিএম-কেয়ার্সে জমা করা হবে। বিরোধী কংগ্রেসের প্রশ্ন, পিএম-কেয়ার্সে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার কোটি টাকা জমা পড়েছে সেই টাকা কোথায় গেল? শেষপর্যন্ত দিল্লি হাই কোর্টে আইনজীবী সম্যক গাঙ্গোয়াল এই ফান্ডের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে মামলা করেছিলেন। আদালতে তিনি আর্জি জানান, আদালতও যদি মেনে নেয় যে পিএম-কেয়ার্স তহবিল কোনও সরকারি সংস্থা নয়, তা হলে সেখানে প্রধানমন্ত্রীর ছবি, জাতীয় প্রতীকের ব্যবহার বন্ধ করা হোক।

এই মামলায় আজ শেষ অবধি প্রধানমন্ত্রীর দফতরের আন্ডার সেক্রেটারি প্রদীপ কুমার শ্রীবাস্তব দিল্লি হাই কোর্টে হলফনামা দিয়ে দাবি করেছেন, এই তহবিলে বাজেট থেকে কোনও অর্থ বরাদ্দ করা হয় না। শুধু মাত্র স্বেচ্ছায় অনুদানই জমা পড়ে। সংবিধান বা সংসদের তৈরি কোনও আইনের মাধ্যমে এই তহবিল তৈরি করা হয়নি। এই হলফনামার জেরে ফের তৈরি হয়েছে বিতর্ক। ২৭ সেপ্টেম্বর দিল্লি হাই কোর্টে প্রধান বিচারপতি ডি এন পটেলের বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হবে। আজ প্রধানমন্ত্রীর দফতরের যুক্তি দিয়েছে, পিএম-কেয়ার্স তথ্যের অধিকার আইনে না এলেও সমস্ত তথ্য ওয়েবসাইটেই রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে গত বছর ২৭ মার্চ তৈরি হওয়া পিএম-কেয়ার্সের ওয়েবসাইটে গত বছরেরই ৩১ মার্চ পর্যন্ত মাত্র চার দিনের আয়-ব্যয়েরই হিসেব রয়েছে। তার পরে এক বছরের বেশি সময় কেটে গেলেও ফান্ডের আর কোনও আয়-ব্যয়ের হিসেব নেই। আজ প্রধানমন্ত্রী দফতরের বিবৃতির জেরে ফের একবার বিতর্ক তুঙ্গে।

Happy
Happy
0 %
Sad
Sad
0 %
Excited
Excited
0 %
Sleepy
Sleepy
0 %
Angry
Angry
0 %
Surprise
Surprise
0 %

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Next Post

রোগিনীকে শ্লীলতাহানি, অভিযুক্ত ওয়ার্ড বয় । এম ভারত নিউজ

বর্ধমানের বোরহাটে বেসরকারি হাসপাতালে রোগিনীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে কাঠগড়ায় ওয়ার্ড বয়। তরুণীর অভিযোগকে কেন্দ্র করে বেসরকারি হাসপাতালে বিক্ষোভ দেখান রোগিণীর পরিবারের লোকজনেরা। অভিযুক্ত ওয়ার্ড বয়কে ঘেরাও করে গণপিটুনিও দেয় আত্মীয় পরিজনেরা। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ ওই ওয়ার্ড বয়কে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।জানা যাচ্ছে, গত মঙ্গলবার আচমকাই শ্বাসকষ্ট শুরু হওয়ায় বোরহাটের […]

Subscribe US Now

error: Content Protected