বিশ্ব অ্যাস্থমা দিবস আজ, জরুরি পরিস্থিতিতে কী করবেন, জানেন কি ? । এম ভারত নিউজ

user
0 0
Read Time:6 Minute, 54 Second

দেশজুড়ে ভয়াবহ অবস্থা করোনা আবহে। প্রতিমুহূর্তেই তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে প্রাণবায়ু অক্সিজেনের সংকট। এরই মধ্যে বিশ্ব অ্যাস্থমা দিবস আজ। অ্যাস্থমা বা হাঁপানি মূলত ফুসফুসের প্রদাহজনিত রোগ। ভয়াবহ শ্বাসকষ্টে ভোগেন এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা। কিন্তু আসলে কী এই অ্যাস্থমা, কেন বাড়ে এর প্রকোপ, তখন কীই বা করণীয়, জানেন কি? বিশ্ব অ্যাস্থমা দিবসে রইল এই সংক্রান্ত কিছু তথ্য ।

শ্বাসযন্ত্রে ভাইরাল সংক্রমণই অ্যাস্থমার প্রথম ও প্রধান কারণ। বিশ্ব এখন করোনাভাইরাসের কবলে। ফলে সমস্যা আরও বেড়েছে অ্যাস্থমার রোগীদের। সমস্যা বাড়াচ্ছে পরিবেশ দূষণ, জিন মিউটেশন। অ্যালার্জি সৃষ্টিকারী জীবাণু রয়েছে পরিবেশেই। যার ফলে আজকাল প্রবল শ্বাসকষ্টে মৃত্যুটা যে অতি সাধারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে গোটা দেশেই।

অ্যাস্থমা এমন একটি রোগ যাকে পুরোপুরি সারিয়ে তোলা সম্ভব নয়৷ তবে সঠিক নিয়ম পালনের মাধ্যমে আয়ত্তে আনা যেতে পারে পরিস্থিতি। এই রোগের বেশ কয়েকটি লক্ষণ রয়েছে৷ কিন্তু প্রত্যেক আক্রান্ত ব্যাক্তিরই যে একই ধরনের উপসর্গ থাকবে তার কোন মানে নেই৷ মানুষের শারীরিক অবস্থার উপর নির্ভর করে এই রোগের উপসর্গ গুলি আলাদা হয়৷ তবে অ্যাস্থমার কয়েকটি সাধারণ লক্ষণ হল………

▪️মাত্রাতিরিক্ত শ্বাসকষ্ট

▪️রাতে অবিরাম কাশি

▪️বুকে চাপ বা ব্যথা অনুভব করা

▪️রাতে ঘুমোতে কষ্ট হওয়া

▪️কাশি বা হাঁচি ইত্যাদি৷

যদিও ঠিক কী কারণে হয় অ্যাস্থমা তা এখনও স্পষ্টভাবে জানেননা চিকিৎসকরাও। এই রোগের জন্য সাধারণত দায়ী করা হয় ধূমপান, বংশগতি ইত্যাদিকেই।
কোন কোন পরিস্থিতি ও কারণে বাড়ে অ্যাস্থমার ঝুঁকি?

▪️বংশে কারও অ্যাস্থমা থাকলে বাড়ে ঝুঁকি।

▪️অন্তঃসত্ত্বা মহিলা ধূমপান করলে শিশুর হাঁপানির প্রবণতা থাকে।

▪️ধুমপান অ্যাস্থমার ঝুঁকি বাড়ায়। প্যাসিভ বা সেকেন্ড হ্যান্ড স্মোকিংয়েও হতে পারে অ্যাস্থমা।

▪️ ধুলো, ধোঁয়া, বাতাসে ভেসে থাকা ফুলের রেণু, পোষা পশুপাখির লোম, রান্নাঘর ও বিছানার ধুলো, তুলোর আঁশ ইত্যাদি শ্বাসনালীর প্রদাহ সৃষ্টি করে। এর থেকে অ্যাস্থমা অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ে।

▪️কাজের জায়গায় রাসায়ানিকের ধোঁয়া, ধুলো, গ্যাস ইত্যাদির প্রকোপে অ্যাস্থমার অ্যাটাক শুরু হতে পারে।

▪️দূষিত পরিবেশ অ্যাস্থমার অ্যাটাক বাড়িয়ে দেয়।

▪️ঋতুপরিবর্তনের সময় সর্দিজ্বর হলে প্রবণতা বাড়ে এই রোগের ।

▪️অনেক সময় অতিরিক্ত কায়িক পরিশ্রম করলে অ্যাস্থমার ঝুঁকি থাকে। এর ডাক্তারি নাম এক্সারসাইজ ইন্ডিউসড অ্যাজমা।

▪️কিছু কিছু ওষুধের (আইব্রুফেন, অ্যাসপিরিন, বিটাব্লকার ইত্যাদি) পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে অ্যাস্থমার অ্যাটাক হতে পারে।

অতিরিক্ত শ্বাসকষ্ট হলে কী করবেন? জেনে নিন।

▪️ সোজা হয়ে বসুন। বালিশে হেলান দেবেন না। ভাবুন যে কিছুই হয়নি, আতঙ্কের কিছু নেই।

▪️ ইনহেলার স্পেসারের সাহায্যে ধীরে ধীরে পাঁচটি চাপ নিন । স্পেসার না থাকলে কাগজের ঠোঙা ব্যবহার করতে পারেন।

▪️স্পেসারের মধ্যে প্রতিবার একটি চাপ দিয়ে তা থেকে পাঁচবার শ্বাস নিতে হবে। এভাবে পাঁচবার চাপ দিন। বয়স্ক ও শিশুদের ক্ষেত্রে খেয়াল করুন, শ্বাস বড় করে ওষুধ ঠিকমতো টেনে নেওয়া হচ্ছে কি না।

▪️পাঁচ মিনিট অপেক্ষা করুন। বিশ্রাম নিন। তারপরও শ্বাসকষ্ট না কমলে আবার পাঁচ বার চাপ নিন। এভাবে মোট পাঁচবার (মোট ২৫ চাপ) নেওয়া যেতে পারে।

▪️এরপরও শ্বাসকষ্ট বা হাঁপানির টান না কমলে রোগীকে কাছাকাছি হাসপাতালে নিতে হবে বা নেবুলাইজার যন্ত্রের সাহায্য লাগবে। হাসপাতালে পৌঁছার আগ পর্যন্ত পাঁচবার করে ইনহেলার নিতে থাকবেন।

▪️ শুরুতেই জিভ, নখ বা আঙুল নীল হয়ে এলে, শ্বাসকষ্টের জন্য কথা পর্যন্ত না বলতে পারলে বা চেতনা হারিয়ে যেতে থাকলে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করাই ভালো। এ ক্ষেত্রে নেবুলাইজার ছাড়াও অক্সিজেনের প্রয়োজন হতে পারে।

এছাড়াও আপনার যদি অ্যাস্থমার প্রবণতা থাকে তাহলে মেনে চলুন নীচের কয়েকটি নিয়ম
সবসময় হাসি-খুশি থাকার চেষ্টা করুন।

ভয়, হতাশা ও চিন্তাগ্রস্থ হবেন না কখনও । বিষয়টাকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে নিন।

ভুলে যান যে আপনার অ্যাস্থমা ও শ্বাসকষ্টের সমস্যা রয়েছে।

শ্বাস গ্রহনের পর প্রায় পনের সেকেন্ড শ্বাস ধরে রাখার অভ্যাস করুন।

প্রতিদিন কিছু সময় শ্বাসের ব্যায়াম করার চেষ্টা করুন।

সুযোগ পেলে কিছুটা সময় জোরে জোরে শ্বাস নিন।

দুটি ঠোট শীষ দেওয়ার ভঙ্গিতে এনে ধীরে ধীরে মুখ দিয়ে শ্বাস ছাড়ুন।

শ্বাসকষ্ট বেশি হলে বা শ্বাসকষ্ট না কমলে দেরী না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

Happy
Happy
0 %
Sad
Sad
0 %
Excited
Excited
0 %
Sleepy
Sleepy
0 %
Angry
Angry
0 %
Surprise
Surprise
0 %

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Next Post

রাজ্যে কোভিড গাইডলাইন জারি করার পর কেমন অবস্থা শহর এবং শহরতলীর ? দেখে নিন । এম ভারত নিউজ

করোনা ঠেকাতে আজ থেকেই রাজ্যে চালু হয়েছে আংশিক লকডাউন । করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে গোটা দেশের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাজ্য। তাই প্রতিদিনই, আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে দেখা যাচ্ছে মৃতের সংখ্যা। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য বিধানসভা নির্বাচন ২০২১ এর ফলাফল বেরোনোর পর গতকাল তৃতীয়বারের মতো মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ গ্রহণ পাঠের পরই […]

Subscribe US Now

COVID-19 CASES
World Cases
57,686,941
Powered By Unibots
COVID-19 CASES
World Deaths
1374547
Powered By Unibots
COVID-19 CASES
India Cases
9050597
Powered By Unibots
COVID-19 CASES
India Deaths
132726
www.mbharat.in
COVID-19 CASES
Stay Safe!
Powered By Unibots
error: Content Protected